দেশভাগ্ সম্পর্কিত কয়েকটি বই
বৈজয়ন্ত চক্রবর্তী
হাসান আজিজুল হক; আগুনপাখি (কলকাতা: দে'জ পাবলিশিং, প্রথম প্রকাশ: কলকাতা, ২০০৮);
ত্রিদিব চক্রবর্তী, নিরুপমা রায় মন্ডল, পৌলোমী ঘোষাল সম্পা: ধ্বংস ও নির্মাণ: বঙ্গীয় উদ্বাস্তু সমাজের স্বকথিত বিবরণ (কলকাতা: সেরিবান, স্কুল অব কালচারাল টেক্সট্স্ অ্যান্ড রেকর্ডস্, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, প্রথম প্রকাশ: কলকাতা, ২০০৭)
সেমন্তী ঘোষ সম্পা: দেশভাগ: স্মৃতি আর স্তব্ধতা (কলকাতা: গাঙচিল, প্রথম প্রকাশঃ কলকাতা, ২০০৮)
"আমাকে কেউ বোঝাইতে পারলে না যি সেই দ্যাশটো আমি মোসলমান বলেই আমার দ্যাশ আর এই দ্যাশটি আমার লয়৷ আমাকে আরও বোঝাইতে পারলে না যি ছেলেমেয়ে আর যায়গায় গেয়েছে বলে আমাকেও সিখানে যেতে হবে৷ আমার সোয়ামি গেলে আমি আর কি করব? আমি আর আমার সোয়ামি তো একটি মানুষ লয়, আলেদা মানুষ৷ খুবই আপন মানুষ, জানের মানুষ, কিন্তুক আলেদা মানুষ"৷-আগুনপাখি, হাসান আজিজুল হক
দেজ পাবলিশিং প্রকাশিত উপন্যাসটির পিছনের প্রচ্ছদে এই কয়টি লাইন উদ্ধৃত৷ লাইনগুলি উপন্যাসটির মূল মোটিফের সার্থক ধরতাই যোগায়৷ হাসান আজিজুল হকের মত শক্তিশালী কাহিনীকারের প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস হিসেবে "আগুনপাখি" অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ৷ অনেকের কাছে হয়ত বা আনন্দ পুরস্কার প্রাপ্তি উপন্যাসটিকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দান করে৷ কিন্তু আপাতত: আমি ঐ লাইন কটির পিছনে একটি উপমহাদেশ এবং তার অগুন্তি সাধারণ মানুষের ইতিহাসের সিল্যুয়েট ছাড়া আর কিছুই দেখতে পাই না৷হয় তো আরও অনেক কিছুই দেখা সম্ভব৷ একজন মুসলমান নারীর গার্হস্থ্য আত্মকথন চলতি যুগের অ্যাকাডেমিক ফ্যাশনের নিরিখে বহুমাত্রিক বিশ্লেষণের সম্ভাবনায় উজ্জ্বল৷ উপন্যাসটির সরলরৈখিক আটপৌরে চলন কি ইচ্ছাকৃত একটি শৈলী, যা দেশভাগের বিয়োগান্ত মহাকাব্যের একটি সমান্তরাল নারীবাদী ভাষ্যের জন্ম দেয়? অথবা, বন্যা ও মন্বন্তরের পরে যৌথ পরিবারের ভাঙন কি পরবর্তী সময়ের আরও বড় ভাঙনের রূপকাভাস? প্রশ্নগুলি এই মুহূর্তে আমি এড়াতে চাই৷ বস্তুত: উপন্যাসটির প্রথাগত সমালোচনা আদৌ এ লেখাটির উদ্দেশ্য নয়৷ হাসান আজিজুল হলের মত প্রবাদপ্রতিম কাহিনীকারের সৃষ্টির ভালোমন্দ বিচারের স্পর্ধা বা সামর্থ্য -কোনোটাই অর্জন করি নি এখনও৷ উপন্যাসটির গপ্পোটি জেনে নেওয়ার দায়িত্বটাও পাঠকপাঠিকার উপরই ন্যস্ত করি৷ বরং ঐ কম্পাসপ্রতিম বাক্যগুলি বুকপকেটে রেখে কিছু এলোমেলো ভাবনার রাস্তায় বেরিয়ে পড়ি৷